বাণিজ্য

স্বর্ণের দামে বড় পতন

দুবাইয়ে বিনিয়োগে নতুন আশা প্রবাসীদের

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে সাম্প্রতিক দরপতন এবং বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে দুবাইয়ের স্বর্ণবাজারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে প্রবাসীদের।

বিশেষ করে বাংলাদেশি প্রবাসীদের একটি অংশ স্বর্ণকে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছেন। দাম কমার সুযোগে স্বর্ণ কিনে ভবিষ্যতে দাম বাড়লে বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের প্রত্যাশাও রয়েছে তাঁদের মধ্যে।

দুবাই দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তুলনামূলক প্রতিযোগিতামূলক বাজার, স্বর্ণের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা এবং বৈচিত্র্যময় অলংকার ও বুলিয়ন বাজারের কারণে প্রবাসী ক্রেতাদের কাছে শহরটির স্বর্ণবাজার আকর্ষণীয়।

তবে স্বর্ণের দাম কমলেই যে বিনিয়োগে নিশ্চিত মুনাফা হবে, এমন নয়। বিশ্ববাজারের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার, ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবধান এবং অন্যান্য খরচও বিনিয়োগের ফল নির্ধারণ করে।

২ নভেম্বর ২০২৬-এর প্রকাশিত বাজারতথ্য অনুযায়ী, দুবাইয়ে স্বর্ণের দাম গত কয়েক দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

gold price
gold price

রোয়া নিউজ নেটওয়ার্কের ২ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক সপ্তাহে ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি গ্রামে ১৪.৭৫ দিরহাম কমেছে। তবে সোমবার সকালে বাজারে সামান্য ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাও দেখা গেছে।

অন্যদিকে, গুডরিটার্নসের ঐতিহাসিক মূল্যতথ্যে দেখা যায়, অক্টোবরের শুরুতে দুবাইয়ে ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ছিল প্রতি গ্রাম ৫০৩.৫০ দিরহাম। ৩১ অক্টোবর তা নেমে দাঁড়ায় ৪৬৮.৭৫ দিরহামে। অর্থাৎ এক মাসে দাম কমেছে প্রায় ৬.৯ শতাংশ। ২২ ক্যারেটের দামও একই সময়ে প্রায় ৬.৯২ শতাংশ কমেছে।

স্বর্ণের দরপতনের পেছনে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির কয়েকটি বিষয় কাজ করছে।

মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান: ডলারের মূল্য বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারে কেনাবেচা হওয়া স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা: যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশা স্বর্ণের চাহিদায় প্রভাব ফেলছে।

জ্বালানি তেলের মূল্য ও মূল্যস্ফীতি: তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা বদলে দিচ্ছে।

রয়টার্সের ১ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। ২ নভেম্বর আবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। শুক্রবারের বড় দরপতনের পর সোমবার স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ০.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯০৭.৯৪ ডলারে ওঠে।

দুবাইয়ের স্বর্ণবাজারে দাম কমলে ক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে কেনার আগ্রহ তৈরি হয়। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁরা দাম কমার সময়টিকে কেনার সম্ভাব্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

বাংলাদেশি প্রবাসীদের ক্ষেত্রেও স্বর্ণ কেনার বিষয়টি সঞ্চয় ও সম্পদ ধরে রাখার একটি সম্ভাব্য মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে বাংলাদেশি প্রবাসীরা ব্যাপক হারে দুবাইয়ের স্বর্ণে বিনিয়োগে ঝুঁকছেন এমন দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

স্বর্ণের দাম কমেছে বলেই এখন কিনলে নিশ্চিত লাভ হবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। কারণ স্বর্ণের বাজারে দাম আরও কমতে পারে, আবার বাড়তেও পারে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার, ডলারের অবস্থান, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের চাহিদার ওপর। ২ নভেম্বরের বাজারে সামান্য মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেলেও সাম্প্রতিক দরপতনের কারণে বাজারে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

দুবাইয়ের স্বর্ণবাজারে দাম কমার এই পরিস্থিতি প্রবাসীদের জন্য কেনাকাটা ও বিনিয়োগের নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে আবেগের বশে নয়, বাজার বিশ্লেষণ, ক্রয়মূল্য, বিক্রয়মূল্য এবং আনুষঙ্গিক খরচ হিসাব করেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button